• ২২ ভাদ্র ১৪৩৩, শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

Mamata Banerjee

কলকাতা

মমতার মিছিল আটকাল আদালত! মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর যাওয়ার বদলে কী নির্দেশ

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট পর্যন্ত মিছিল করতে চেয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। সেই কর্মসূচির অনুমতি চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূল নেতা অসিত মজুমদার। বৃহস্পতিবার সেই মামলার শুনানিতে মিছিলের বদলে সভা করার অনুমতি দিল আদালত।বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চের নির্দেশ, শ্রীরামপুরে মিছিল করা যাবে না। তার পরিবর্তে জগন্নাথদেব স্থানপিঁড়ি ময়দানে সভা করতে পারবে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। সেই সভায় নেতৃত্ব দেবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সভার ক্ষেত্রে একাধিক শর্ত বেঁধে দিয়েছে আদালত।আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভার কারণে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। সভা চলাকালীন গাড়ি চলাচলের জন্যও পর্যাপ্ত জায়গা রাখতে হবে। দুপুর একটা থেকে সভা শুরু করা যাবে এবং তা শেষ করতে হবে দুপুর তিনটের মধ্যে।সভায় সর্বাধিক দুই হাজার মানুষ থাকতে পারবেন বলেও নির্দেশ দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সভায় এমন কোনও মন্তব্য করা যাবে না, যার ফলে কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর মানুষ আঘাতপ্রাপ্ত বা মর্মাহত হতে পারেন। অর্থাৎ বক্তব্য রাখার ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে আয়োজকদের।আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশকে। সভাকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে পুলিশকে। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার রাত আটটার মধ্যে দশ জন স্বেচ্ছাসেবকের নাম ও ফোন নম্বর আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।রাজ্য সরকারের বিভিন্ন কাজের বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি হিসেবে মিছিল করতে চেয়েছিল কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেস। সেই উদ্দেশ্যে এগারো সেপ্টেম্বর মিছিলের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু মামলার শুনানিতে মিছিলের পরিবর্তে সভা করার প্রস্তাব দেন বিচারপতি। তাতেই সম্মতি জানান তৃণমূলের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।শুনানির পর কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্যের তরফে বারবার মিছিলের বিরোধিতা করা হয়েছিল। এরপর বিচারপতি মিছিলের পরিবর্তে সভা করার প্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে তাঁরা সম্মতি জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, সভাটি হবে জগন্নাথদেব স্থানপিঁড়ি ময়দানে এবং সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে পারবেন।ফলে মাহেশ থেকে শ্রীরামপুর কোর্ট পর্যন্ত মিছিলের যে আবেদন করা হয়েছিল, আদালতের নির্দেশে তার পরিবর্তে সভা হবে। নির্দিষ্ট সময়, লোকসংখ্যা, সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং বক্তব্যের ধরনসব ক্ষেত্রেই আদালতের শর্ত মেনে কর্মসূচি করতে হবে কালীঘাট তৃণমূল কংগ্রেসকে।

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজনীতি

জোড়াফুল কার? উপনির্বাচনের আগেই তৃণমূলের ভাগ্য নির্ধারণে কমিশন, দিল্লিতে মুখোমুখি দুই শিবির

১৬ সেপ্টেম্বরের আগেই সিদ্ধান্ত? প্রতীক ফ্রিজ নাকি এক পক্ষের হাতে তুলে দেবে কমিশনতুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনাএকদিকে উপনির্বাচনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে চরম টানাপোড়েন। নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের ভোটযুদ্ধ শুরু হওয়ার আগেই যেন আরও বড় এক রাজনৈতিক লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হয়ে গেল দিল্লিতে। প্রশ্ন এখন একটাইতৃণমূলের আসল দাবিদার কে? আর কার হাতে থাকবে সেই বহু-পরিচিত ঘাসের উপর জোড়াফুল?উপনির্বাচনের দিন ঘোষণার পরই তৃণমূলের প্রতীক সংক্রান্ত জটিলতা দ্রুত মেটাতে সক্রিয় হয়েছে নির্বাচন কমিশন। চলতি সপ্তাহেই দুই শিবিরকে দিল্লিতে কমিশনের সদর দফতরে তলব করা হয়েছে। অর্থাৎ, এবার আর রাজনৈতিক দাবি-পাল্টা দাবিতে বিষয়টি আটকে থাকছে না। দুই পক্ষকেই কমিশনের সামনে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও বৈধতার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে হবে।বুধবার নির্বাচন কমিশনের সচিব অশ্বিনী কুমার মোহালের তরফে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে কমিশনের সামনে ঋতব্রত শিবিরের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দলকে হাজির থাকতে বলা হয়েছে। একই দিনে, মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিদেরও ডাকা হয়েছে।অর্থাৎ, এবার মুখোমুখি দুই পক্ষ, আর মাঝখানে নির্বাচন কমিশন।প্রশ্নের কেন্দ্রে একটাই প্রতীকতৃণমূলের প্রতীক নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ এবার কার্যত ডেডলাইন-এর মুখে। কারণ, ১৬ সেপ্টেম্বর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন।এই সময়সীমাই কমিশনের সিদ্ধান্তকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা, মনোনয়ন পর্ব শুরু হওয়ার আগেই প্রতীক নিয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে কমিশন। কারণ, ভোটের মাঠে একই দলের প্রতীক নিয়ে দ্বন্দ্ব তৈরি হলে তা শুধু দুই শিবিরের সংঘাত নয়, গোটা নির্বাচনী প্রক্রিয়াকেই জটিল করে তুলতে পারে।তাই এখন নজর ১২ সেপ্টেম্বরের দিকে। দুই পক্ষের বক্তব্য শোনার পর কমিশন কোন পথে হাঁটে, সেটাই হয়ে উঠতে চলেছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক প্রশ্ন।কমিশনের সামনে দুটি রাস্তাএই পরিস্থিতিতে কমিশনের সামনে মূলত দুটি সম্ভাব্য পথ রয়েছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।প্রথম পথপ্রতীক স্থগিত।চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত তৃণমূলের জোড়াফুল প্রতীক ফ্রিজ করে দিতে পারে কমিশন। সেক্ষেত্রে কোনও শিবিরই উপনির্বাচনে জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। দুই পক্ষকেই বিকল্প প্রতীক নিয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামতে হবে।দ্বিতীয় পথএক পক্ষের হাতে প্রতীক।কমিশন চাইলে দুই পক্ষের মধ্যে যেকোনও একটিকে তৃণমূলের স্বীকৃত শিবির হিসেবে বিবেচনা করে জোড়াফুল প্রতীক বরাদ্দ করতে পারে। সেক্ষেত্রে প্রতীক পাওয়া পক্ষের রাজনৈতিক সুবিধা হবে বিরাট। আর অপর শিবিরকে কার্যত নতুন প্রতীক, নতুন পরিচয় এবং নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে ভোটে নামতে হবে।এখানেই লুকিয়ে রয়েছে উপনির্বাচনের আগে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক বিস্ফোরণের সম্ভাবনা।দৌড়ে এগিয়ে ঋতব্রত শিবির?কমিশনের সিদ্ধান্তের আগে রাজনৈতিক মহলে আর একটি প্রশ্ন ঘুরছেকার পাল্লা ভারী?ওয়াকিবহাল মহলের একাংশের মতে, এই মুহূর্তে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির কিছুটা এগিয়ে রয়েছে। কারণ, তাঁদের দাবি অনুযায়ী, সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সমর্থন এখনও তাঁদের সঙ্গে রয়েছে। পাশাপাশি পঞ্চায়েত ও পুরসভা স্তরেও তৃণমূলের একটি বড় অংশের জনপ্রতিনিধি তাঁদের পাশে রয়েছেন বলে দাবি করা হচ্ছে।প্রতীক সংক্রান্ত বিবাদে সাংগঠনিক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ফলে কমিশনের সামনে ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম বড় হাতিয়ার হতে পারে এই সংখ্যার অঙ্ক।তবে সংখ্যার অঙ্কই শেষ কথা হবে কি না, সেটাই এখন দেখার।কারণ, কালীঘাটও যে লড়াই ছেড়ে দেবে না, তা বলাই বাহুল্য। দলের রাজনৈতিক পরিচয়, নেতৃত্বের বৈধতা এবং সংগঠনের নিয়ন্ত্রণপ্রতিটি প্রশ্নেই পাল্টা যুক্তি নিয়ে কমিশনের সামনে হাজির হওয়ার প্রস্তুতি থাকবে তাদের।প্রতীক হারালে ধাক্কা কোথায়?রাজনীতিতে প্রতীক শুধু একটি চিহ্ন নয়। ভোটারের কাছে সেটিই দলের পরিচয়, ইতিহাস এবং রাজনৈতিক বিশ্বাসের অন্যতম প্রধান প্রতীকী ঠিকানা।সেই জায়গা থেকেই ১৬ সেপ্টেম্বরের আগে যদি কোনও এক পক্ষ জোড়াফুলের স্বীকৃতি পেয়ে যায়, তাহলে উপনির্বাচনের ময়দানে তার প্রভাব সরাসরি পড়বে। বিশেষ করে যে পক্ষ প্রতীক পাবে, তারা তৃণমূল পরিচয়কে সামনে রেখে ভোট চাইতে পারবে। অপর পক্ষকে নতুন প্রতীক নিয়ে ভোটারদের বোঝাতে হবেকেন তারাই প্রকৃত রাজনৈতিক উত্তরাধিকারী।আর এখানেই কালীঘাটের জন্য তৈরি হতে পারে বড় চ্যালেঞ্জযদি শেষ পর্যন্ত প্রতীক তাদের হাতে না থাকে।সুপ্রিম কোর্টে যাবে মামলা?কমিশনের সিদ্ধান্ত এক পক্ষের বিরুদ্ধে গেলে আইনি লড়াইয়ের দরজাও খুলে যেতে পারে। সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে প্রতীক-সংক্রান্ত এই বিরোধএমন সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।কিন্তু ততক্ষণে নির্বাচনী ক্যালেন্ডার থেমে থাকবে না। ১৬ সেপ্টেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা সামনে রেখে দুই শিবিরকেই দ্রুত নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।ফলে আদালতের লড়াই চললেও উপনির্বাচনের মাঠে যে রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হবে, সেটিই হয়তো পরবর্তী লড়াইয়ের ভিত্তি হয়ে দাঁড়াবে।শেষ লড়াই কি তবে জোড়াফুল নিয়েই?নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরের উপনির্বাচন এখন আর শুধুই দুটি বিধানসভা আসনের লড়াই নয়। তার আগেই তৈরি হয়েছে আরও বড় রাজনৈতিক পরীক্ষা।১২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে কমিশনের সামনে দুই শিবিরের বক্তব্য, ১৬ সেপ্টেম্বরের আগে সম্ভাব্য সিদ্ধান্তএই কয়েকটি দিনেই হয়তো স্পষ্ট হয়ে যাবে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে পরবর্তী অধ্যায়ের ছবি।জোড়াফুল কি থাকবে এক পক্ষের হাতে? নাকি আপাতত ফ্রিজ হয়ে যাবে দলের প্রতীক?উত্তর দেবে নির্বাচন কমিশন। তবে তার আগেই রাজনৈতিক মহলে সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি ঘুরপাক খাচ্ছেতৃণমূল নামের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে জোড়াফুল?

সেপ্টেম্বর ১০, ২০২৬
রাজ্য

মমতা নন্দীগ্রামে প্রার্থী হলেই বড় সিদ্ধান্ত! প্রার্থী দেবে না ঋত শিবির, জানালেন ঋজু দত্ত

নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রার্থী হলে তাঁরা কোনও প্রার্থী দেবেন না বলে জানাল ঋত শিবির। বুধবার বিধানসভার সামনে দাঁড়িয়ে এই ঘোষণা করেন আসল তৃণমূলের সর্বভারতীয় মুখপাত্র ঋজু দত্ত। তাঁর বক্তব্য, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হলে তাঁদের শিবির ভোটে প্রার্থী দেবে না।ঋজু দত্ত বলেন, তাঁরা চান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে প্রার্থী হন এবং জিতে বিধানসভায় ফিরে আসুন। তাঁর কথায়, মমতা প্রার্থী হলে তাঁদের পক্ষ থেকে কোনও প্রার্থী দেওয়া হবে না।পুজোর আগেই নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। তার আগে এই দুই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রতীক নিয়ে কারা প্রার্থী হবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের ভিতরে বিভাজন আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে দাবি দুই পক্ষেরই। বর্তমানে দলটি কালীঘাট তৃণমূল এবং ঋতব্রত শিবিরএই দুই শিবিরে বিভক্ত বলে রাজনৈতিক মহলে চর্চা রয়েছে।দলের নাম এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কোন গোষ্ঠীর হাতে থাকবে, তা নিয়েও টানাপড়েন চলছে। ফলে নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রতীকে শেষ পর্যন্ত কোন পক্ষ প্রার্থী দেবে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়েছে।এই পরিস্থিতিতেই নন্দীগ্রাম নিয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেন ঋজু দত্ত। তিনি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, সে বার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। ভবানীপুরেও দুই পক্ষের মধ্যে লড়াই হয়েছিল। কিন্তু এবার নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী নেই। তাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওই কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন তাঁরা।অন্য দিকে, নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থিতা নিয়ে কার্যত পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন আবু তাহের। তাঁর দাবি, দলের সুসময়ের সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন এবং ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন। এবার উপনির্বাচনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন তিনি।আবু তাহেরের আরও দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁদের সঙ্গে আলোচনা না করেই প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নিজের বক্তব্যে তিনি ২০২১ সালের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, তখন মমতা নিজেই নিজের নাম ঘোষণা করেছিলেন। তাঁদের দীর্ঘ আন্দোলন এবং অতীতে করা একাধিক মামলার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।আবু তাহেরের বক্তব্য, বাম আমল থেকে তাঁরা নন্দীগ্রামে লড়াই করে এসেছেন। পরবর্তীকালে বিজেপির তরফেও তাঁদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছিল বলে তাঁর দাবি। তাঁর কথায়, দলের সুসময় থাকাকালীন তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হয়নি। এখন দলের দুর্দিনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নন্দীগ্রাম থেকে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ দিচ্ছেন তিনি।ফলে নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রার্থিতা ঘিরে দুই ধরনের বার্তা সামনে এল। এক দিকে ঋত শিবিরের তরফে মমতাকে প্রার্থী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রার্থী না দেওয়ার ঘোষণা, অন্য দিকে আবু তাহেরের সরাসরি চ্যালেঞ্জ। এই দুই বক্তব্যের জেরে নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনের রাজনৈতিক সমীকরণ নিয়ে নতুন করে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

সেপ্টেম্বর ০৯, ২০২৬
কলকাতা

কাদের ফেরাবে তৃণমূল, কাদের নয়? কুণালের মন্তব্যে প্রকাশ্যে এল দলের অবস্থান

বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলে ভাঙনের জল্পনা ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চর্চা শুরু হয়েছে। এর মধ্যেই বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষের মন্তব্য ঘিরে আরও জোরাল হয়েছে দলত্যাগী বিধায়ক ও সাংসদদের ঘরে ফেরার জল্পনা। তাঁর দাবি, তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া অনেক বিধায়ক এবং সাংসদ এখনও দলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল বলেন, দল ছেড়ে যাওয়া সকলেই একই রকম নন। তাঁদের মধ্যে অনেকে এখনও যোগাযোগ রাখছেন। কয়েক জন বিধায়ক ও সাংসদ বিভিন্ন কারণে দল ছেড়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।কুণালের দাবি, বিধায়কদের মধ্যে কয়েক জন দুর্নীতি বা নানা অভিযোগ আড়াল করতে দল ছেড়েছেন। আবার কেউ পুরনো মামলার কারণে ভয় পেয়েছেন। কয়েক জনের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা করে হয়রানির হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। সেই কারণেও অনেকে দল ছেড়েছেন বলে জানান কুণাল।আরও দাবি, দল ছেড়ে যাওয়া কয়েক জনের সঙ্গে তৃণমূলের এখনও নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ প্রকাশ্যেও তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে দেখা করছেন। তবে সবাইকে এখনই প্রকাশ্যে আনা হচ্ছে না বলে জানান তিনি।কুণালের ব্যাখ্যা, দলত্যাগী কোনও বিধায়ককে প্রকাশ্যে পাশে বসিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করানোর পর তাঁর এলাকায় নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হলে তৃণমূলের পক্ষে নিয়মিত নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ বর্তমানে বিজেপির কথা শুনছে। সাংসদদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।কুণাল আরও বলেন, দলত্যাগী কয়েক জন এখনও অন্য দলে থাকলেও তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা তৃণমূলের পক্ষে সুবিধাজনক। কারণ, তাঁদের মাধ্যমে সেখানকার নানা খবরও পাওয়া যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।তবে সব নেতার জন্য তৃণমূলের দরজা খোলা নয় বলেও স্পষ্ট করে দেন কুণাল। কারও নাম না করে তিনি বলেন, বিশেষ কয়েক জন এমন কাজ করেছেন, যাঁদের আর দলে ফেরানোর প্রশ্ন নেই। তাঁরা কালীঘাটের আশপাশে এলে দলের কর্মী-সমর্থকেরা তাঁদের গুড়-বাতাসা দিয়ে আপ্যায়ন করবেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।কুণালের এই মন্তব্যে তৃণমূলের প্রাক্তন নেতা অনুব্রত মণ্ডলের পুরনো গুড়-বাতাসা মন্তব্যের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে। ফলে তাঁর বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।এ দিকে কুণালের মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, কুণাল ঘোষ প্রায়ই বিতর্কিত মন্তব্য করে সংবাদমাধ্যম ও সমাজমাধ্যমে আলোচনায় থাকার চেষ্টা করেন। উল্টে কুণালদের সঙ্গে থাকা অনেকেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন বলেও পাল্টা দাবি করেন তিনি।ফলে এক দিকে কুণাল ঘোষের দলত্যাগী বিধায়ক ও সাংসদদের সঙ্গে যোগাযোগের দাবি, অন্য দিকে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা বক্তব্যদুই মন্তব্য ঘিরেই রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে জল্পনা শুরু হয়েছে। সত্যিই দল ছেড়ে যাওয়া কোনও বিধায়ক বা সাংসদ তৃণমূলে ফিরতে চাইছেন কি না, এখন সেই প্রশ্নই সামনে।

সেপ্টেম্বর ০৬, ২০২৬
রাজ্য

শিক্ষক নিয়োগ মামলায় চাকরি গিয়েছিল, কয়েক মাস পরেই মমতার ভাইঝির রহস্যমৃত্যু

মঙ্গলবার সকালে রামপুরহাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামাতো ভাই নিহার মুখোপাধ্যায়ের মেয়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মৃতার নাম বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে মনে করা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই ঘটনা ঘটল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রামপুরহাটের কুশম্বা গ্রামে নিহার মুখোপাধ্যায়ের বাড়িতে কয়েক মাস ধরে থাকছিলেন বৃষ্টি। মঙ্গলবার সকালে বাড়ির দোতলার একটি ঘরে তাঁকে দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করা হয়। কিন্তু কোনও সাড়া না পাওয়ায় পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে থানায় খবর দেওয়া হয়।পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের দরজা ভেঙে বৃষ্টির দেহ উদ্ধার করে। পরে দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।বৃষ্টির নাম এর আগে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলাতেও উঠে এসেছিল। ২০২৩ সালের মার্চে বোলপুর হাইস্কুলে তৃতীয় শ্রেণির কর্মী হিসাবে তাঁর নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ ছিল, অবৈধ ভাবে নিযুক্তদের তালিকায় তাঁর নাম ছিল। পরে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার জেরে চাকরিও হারান তিনি।পরিবার সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, গত কয়েক মাস ধরে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্কের অবনতি হয়েছিল। তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও চলছিল। একটি সন্তানকে নিয়ে তিনি বাবার বাড়িতেই থাকছিলেন।পরিবারের দাবি, চাকরি হারানো এবং ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যার কারণে বৃষ্টি মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে এই কারণগুলির সরাসরি কোনও যোগ রয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়।পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। কী পরিস্থিতিতে বৃষ্টির মৃত্যু হল, ঘটনাটি আত্মহত্যা কি না এবং এর পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে কি না, সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সেপ্টেম্বর ০১, ২০২৬
রাজনীতি

হাইকোর্টের শর্ত উড়িয়ে রাস্তা বন্ধের অভিযোগ, শুভেন্দুর নির্দেশে মমতার বিরুদ্ধে এফআইআর

তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) প্রতিষ্ঠা দিবসের সভাকে ঘিরে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। কলকাতার ক্যাথিড্রাল রোডে আয়োজিত ওই সভায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দিষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। ঘটনার পরই কড়া পদক্ষেপের পথে হাঁটার কথা জানিয়েছেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পুলিশ প্রশাসনকে অবিলম্বে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেওয়ার পাশাপাশি আদালত অবমাননার অভিযোগে হাইকোর্টে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তারপরই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে হেস্টিংস থানায় এফআইআর করেছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে গতকাল ক্যাথিড্রাল রোডে একটি জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সভার অনুমতি দেওয়ার সময় কলকাতা হাইকোর্টের তরফে একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছিল। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, সভা চলাকালীন ক্যাথিড্রাল রোডের অন্তত একটি ফ্ল্যাঙ্ক সচল রাখার কথা ছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের যাতায়াত এবং যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখা। কিন্তু সভা চলাকালীন সেই নির্দেশ কার্যকর ছিল না বলেই অভিযোগ উঠেছে।প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতির সময় পরিস্থিতি আচমকাই বদলে যায়। মঞ্চ থেকে তাঁর ইশারার পর রাস্তার অপর পাশে গাছের নিচে অপেক্ষারত বিপুল সংখ্যক দলীয় কর্মী-সমর্থক ব্যারিকেড অতিক্রম করে সভাস্থলের দিকে এগিয়ে আসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই রাস্তার দুদিকেই মানুষের ভিড় ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে ক্যাথিড্রাল রোডের উভয় ফ্ল্যাঙ্ক কার্যত বন্ধ হয়ে যায় বলে অভিযোগ। যান চলাচলও স্তব্ধ হয়ে পড়ে। বাস, ট্যাক্সি এবং ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে যাওয়ায় সমস্যায় পড়েন সাধারণ মানুষ। ব্যস্ত ওই এলাকায় দীর্ঘক্ষণ যানজট তৈরি হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।ঘটনার পরই সরব হন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি অভিযোগ করেন, হাইকোর্টের নির্দেশে রাস্তার একটি অংশ খোলা রাখার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। তাঁর কথায়, দেখলেন তো আজকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী কীভাবে হাইকোর্টের অর্ডার ভাঙলেন। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল রাস্তার একটি ফ্ল্যাঙ্ক সম্পূর্ণ খোলা রাখতে হবে, যাতে যান চলাচল স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু একেবারে গাছের নিচে থাকা লোকজনদের ডেকে রাস্তা বন্ধ করিয়ে তিনি কী করলেন?এর পরেই পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার কথা জানান শুভেন্দু। তিনি বলেন, আমি ইতিমধ্যেই পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে এফআইআর রেজিস্টার করতে। একই সঙ্গে আদালতের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে হাইকোর্টে আইনি পদক্ষেপের কথাও জানান তিনি। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, এ ধরনের বেআইনি কাজ কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যের শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। হাইকোর্টের নির্দেশ এবং তা লঙ্ঘনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এবার আইনি লড়াইও নতুন মাত্রা পেতে পারে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মমলা করে পুলিশ।

আগস্ট ২৯, ২০২৬
কলকাতা

হালিশহরের পর কলকাতাতেও মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ, ভিড়ের মধ্যে থেকে উঠল সেই স্লোগান

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে ফের বিক্ষোভের অভিযোগ। হালিশহরের ঘটনার পর এবার খাস কলকাতায় একই ধরনের স্লোগান শুনতে হল প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে। মঙ্গলবার শ্যামবাজারে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে চোর, চোর স্লোগানের মুখে পড়েন তিনি।নেতাজির মূর্তির পাদদেশে ক্ষুদিরাম বসুর ছবি হাতে নিয়ে পৌঁছন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্ষুদিরাম বসুকে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, মহাত্মা গান্ধী এবং মাতঙ্গিনী হাজরার কথাও স্মরণ করেন তিনি। মমতা বলেন, এই সংগ্রামীদের কোনও দিন ভোলা যাবে না। তাঁর দাবি, শুধু দেখানোর জন্য নয়, হৃদয় থেকেই এই সমস্ত মহান ব্যক্তিত্বকে স্মরণ করা হয়।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজির মূর্তিতে মালা দেওয়ার পরই পরিস্থিতি বদলে যায়। আচমকা ভিড়ের মধ্যে থেকে চোর, চোর স্লোগান উঠতে শুরু করে বলে অভিযোগ। কালীঘাটপন্থী তৃণমূলের দাবি, বিজেপির কর্মীরাই মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। যদিও ঘটনাস্থলে থাকা এক ব্যক্তির বক্তব্য, মমতা মালা দেওয়ার সময় তাঁরা কোনও স্লোগান দেননি। পরে তাঁরা স্লোগান দেন বলে জানান তিনি।বিক্ষোভের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় গাড়িতে উঠে ঘটনাস্থল ছেড়ে চলে যান। তবে তাঁর গাড়ি চলে যাওয়ার পরেও কিছুক্ষণ স্লোগান ও বিক্ষোভ চলতে দেখা যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়।এই ঘটনার আগে রবিবার হালিশহরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভের অভিযোগ উঠেছিল। সেই সময় তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। তাঁকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগানও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ। ওই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য ছিল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ যথাযথ ব্যবস্থা করেছিল, তবে তিনি জনরোষের মুখে পড়েছিলেন।হালিশহরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার কলকাতার শ্যামবাজারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে একই স্লোগান ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতর শুরু হল। ঘটনাটি ঘিরে তৃণমূল ও বিরোধীদের মধ্যে নতুন করে অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

আগস্ট ১১, ২০২৬
রাজ্য

হালিশহরে মমতার গাড়িতে হামলা? ‘টার্গেট ছিল মমতাকে শেষ করা’, বিস্ফোরক দাবি কল্যাণের

হালিশহরে পুলিশ হেফাজতে মৃত তৃণমূল কর্মীর বাড়িতে যাওয়ার পথে বিক্ষোভের মুখে পড়েন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি লক্ষ্য করে জুতো, ইট ও পাথর ছোড়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়।মমতার সঙ্গে এদিন ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, হালিশহরে যাওয়ার সময় মমতার গাড়িকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। তাঁকে লক্ষ্য করে ওঠে চোর স্লোগানও। পরিস্থিতির জেরে কিছু সময় গাড়ি আটকে থাকে বলে তৃণমূলের দাবি।হালিশহর থেকে ফিরে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ করেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, মমতার গাড়ি লক্ষ্য করে বড় বড় পাথর ছোড়া হয়েছে এবং গাড়ির সামনে বাধা তৈরি করা হয়েছিল। একইসঙ্গে তাঁর অভিযোগ, বাইরে থেকে লোক এনে জমায়েত করা হয়েছিল এবং প্রায় এক ঘণ্টা তাঁদের আটকে রাখা হয়।কল্যাণের আরও দাবি, মমতার গাড়িতে যেভাবে পাথর ছোড়া হয়েছে, তাতে আরও বড় বিপদ ঘটতে পারত। তাঁর কথায়, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল এবং তাঁকে শেষ করে দেওয়াই উদ্দেশ্য ছিল। তবে এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীন ভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও সরব হন। তাঁর দাবি, গাড়ি লক্ষ্য করে প্রচুর ইট ছোড়া হয়েছে এবং দীর্ঘ সময় তাঁকে আটকে রাখা হয়েছিল। এই ঘটনার পিছনে বিজেপির কর্মীদের ভূমিকা রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে বিজেপির বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি।মমতার বক্তব্য, তাঁকে এভাবে থামানো যাবে না। তিনি আরও বলেন, তিনি মানুষের কাছে যাবেন এবং কোনও বাধাতেই পিছিয়ে আসবেন না।হালিশহর থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুর অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই ঘটনা। মৃত ব্যক্তিকে তৃণমূল কর্মী বলে দাবি করেছেন মমতা। তাঁর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতেই হালিশহরে গিয়েছিলেন তিনি। সেই সফর ঘিরে বিক্ষোভ, গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়ার অভিযোগ এবং পাল্টা রাজনৈতিক আক্রমণে নতুন করে উত্তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।ঘটনায় কারা জড়িত ছিলেন, বিক্ষোভ কীভাবে তৈরি হয়েছিল এবং গাড়ি লক্ষ্য করে সত্যিই ইট-পাথর ছোড়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠছে। পুলিশি তদন্তে ঘটনার প্রকৃত ছবি সামনে আসে কি না, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

হালিশহরে মমতার গাড়িতে কাদা-জুতো! ‘চোর’ স্লোগানের পর পানিহাটি থেকে বিস্ফোরক বার্তা শুভেন্দুর

হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, রবিবার তাঁর গাড়ি যাওয়ার সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান। সেই সময় গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা ও জুতো ছোড়া হয় বলেও অভিযোগ ওঠে। মমতাকে লক্ষ্য করে চোর স্লোগানও দেওয়া হয় বলে দাবি।পানিহাটিতে তিলোত্তমার মৃত্যুবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে গিয়ে এই ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ যথেষ্ট ব্যবস্থা করেছিল। টেলিভিশনের ছবিতে তিনি এক জন সিনিয়র পুলিশ আধিকারিকের নেতৃত্বে পুলিশকর্মীদের নিরাপত্তা দিতে দেখেছেন বলেও জানান শুভেন্দু।শুভেন্দুর আরও দাবি, ঘটনাস্থলে বিজেপির কোনও পরিচিত মুখ বা দলীয় পতাকা তিনি দেখতে পাননি। একই সঙ্গে তিনি মমতার হালিশহর সফর নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, ছুটির দিনে এক জন আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে মমতা সেখানে গিয়েছিলেন এবং পুলিশকে আগে থেকে জানানো হয়নি।প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে মমতাকে যথাসম্ভব নিরাপত্তা ও সম্মান দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে বলেও জানান শুভেন্দু। তবে তাঁর পরামর্শ, কেউ সাহায্য চাইলে অবশ্যই সাহায্য করা উচিত। কিন্তু এমন কোনও জায়গায় গিয়ে পরিস্থিতি তৈরি করা উচিত নয়, যাতে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়।হালিশহরের ঘটনার সূত্রপাত থানার হেফাজতে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, মৃত ব্যক্তি তৃণমূলের কর্মী ছিলেন। রবিবার তাঁর বাড়িতে যাওয়ার পথেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ বিক্ষোভ দেখান বলে অভিযোগ। কাদা ও জুতো ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়েছে।এই প্রসঙ্গেই মমতাকে তিলোত্তমার বাড়িতে যাওয়ার পরামর্শ দেন শুভেন্দু। একই সঙ্গে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়ার কথাও বলেন তিনি। তিলোত্তমাকাণ্ডের সময়কার একাধিক অভিযোগ তুলে মমতার বিরুদ্ধে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী।শুভেন্দুর বক্তব্য ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। এক দিকে হালিশহরে মমতার গাড়ি ঘিরে বিক্ষোভ ও কাদা-জুতো ছোড়ার অভিযোগ, অন্য দিকে সেই ঘটনার নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে শুভেন্দুর মন্তব্যসব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে ফের উত্তাপ ছড়িয়েছে।

আগস্ট ০৯, ২০২৬
কলকাতা

প্রতীক নিয়েই সবচেয়ে বড় ধাক্কা? উপনির্বাচনের আগে মমতার পরিকল্পনা ঘিরে তুমুল চর্চা

প্রতীক নিয়ে টানাপোড়েনের মধ্যেই উপনির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু। তৃণমূলের দুই শিবিরই নিজেদের দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত কমিশনের তরফে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। এরই মধ্যে তিনটি বিধানসভা এবং একটি লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রতীক নিয়ে জল্পনা।সাম্প্রতিক সময়ে একাধিকবার প্রতীক নিয়ে আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তাঁর দাবি, প্রতীক হারানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তবু যদি সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়, তাহলে নতুন প্রতীক নিয়েই নির্বাচনে লড়বেন। এমনকি মানুষের কাছে নতুন প্রতীক পরিচিত করাতে প্রয়োজন হলে তা গলায় ঝুলিয়ে প্রচারেও নামবেন বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, দল গঠনের পর প্রথম দিকেও নতুন প্রতীক নিয়েই ভোটে লড়েছিল তৃণমূল। তাই নতুন প্রতীক মানুষকে চিনিয়ে দিতে কোনও সমস্যা হবে না।রাজনৈতিক মহলে জোর আলোচনা, যদি ঘাসফুল প্রতীক না থাকে, তাহলে বিকল্প কী হতে পারে। সূত্রের দাবি, সেই পরিস্থিতির জন্য একটি বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি রাখা হয়েছে। জানা যাচ্ছে, সূর্যমুখী ফুলকে সম্ভাব্য নতুন প্রতীক হিসেবে ভাবা হচ্ছে। যদিও এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের তরফে কোনও ঘোষণা হয়নি এবং তৃণমূলের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।এদিকে রেজিনগর, নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র এবং বসিরহাট লোকসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন হওয়ার কথা। ফলে প্রতীক সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত দ্রুত হওয়া জরুরি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।অন্যদিকে, প্রতীক বিতর্ক নিয়ে ঋতব্রত শিবির এখনও প্রকাশ্যে কোনও বিকল্প পরিকল্পনার কথা জানায়নি। ওই শিবিরের অন্যতম বিধায়ক প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচন কমিশনের উপর তাঁদের সম্পূর্ণ আস্থা রয়েছে। কমিশন সমস্ত নথি এবং আইনি দিক খতিয়ে দেখে যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই তাঁরা মেনে নেবেন। প্রতীক নিয়ে অন্য কোনও ভাবনা এই মুহূর্তে নেই বলেও তিনি জানান।এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ কটাক্ষ করে বলেন, অফিস নেই, অ্যাকাউন্ট নেই, ফুল নিয়ে কী করবেন। স্টেটমেন্ট নিয়ে যা করার করবেন। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আগস্ট ০৩, ২০২৬
কলকাতা

নিট আন্দোলনে বড় চমক! দিল্লির যন্তর মন্তরে যোগ দিচ্ছেন মমতা, তুঙ্গে রাজনৈতিক জল্পনা

নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে দেশজুড়ে চলা ছাত্র আন্দোলনের আবহে এবার দিল্লির যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করলেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী সোমবার তিনি আন্দোলনস্থলে উপস্থিত থাকবেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে। এর আগে একুশে জুলাইয়ের সভা থেকেই আন্দোলনকারীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছিলেন তিনি। প্রয়োজনে দিল্লিতে গিয়ে আন্দোলনে যোগ দেওয়ার কথাও জানিয়েছিলেন। সেই ঘোষণার পরই তাঁর এই সফর ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে দিল্লিতে আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনে বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের পাশাপাশি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলিও সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধী জোটের প্রতিনিধিরাও আন্দোলনকারীদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এবার সেই আন্দোলনে সরাসরি যোগ দিতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।এতদিন তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিরা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানালেও এবার দলনেত্রীর সরাসরি উপস্থিতি জাতীয় রাজনীতিতে নতুন বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিজেপি বিরোধী ইস্যুগুলিতে আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সূত্রের দাবি, দিল্লি সফরে তিনি বিরোধী শিবিরের কয়েকজন শীর্ষ নেতার সঙ্গেও বৈঠক করতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।অন্যদিকে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে বিজেপির তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। দলের মুখপাত্র দেবজিৎ সরকার এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। আবার বিরোধী রাজনৈতিক মহলের অন্য অংশ থেকেও মমতার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ফলে নিট ইস্যুকে কেন্দ্র করে দিল্লির আন্দোলন এখন আরও বেশি রাজনৈতিক গুরুত্ব পেতে শুরু করেছে।

জুলাই ২৪, ২০২৬
কলকাতা

ভুয়ো জন্ম শংসাপত্রে বিস্ফোরক অভিযোগ, মমতা ও আইপ্যাককে নিশানা শুভেন্দুর

ভুয়ো জন্ম শংসাপত্র নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হল। হুগলির গুপ্তিপাড়ায় রথের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ করেন।শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, অনুপ্রবেশকারীদের নাগরিক প্রমাণ দেওয়ার জন্য অবৈধভাবে জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করা হয়েছিল। তিনি বলেন, এসআইআরের সময় আইপ্যাকের কর্মীদের বসিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর দলের নির্দেশে এই কাজ হয়েছে। এতে রাজ্যের ও দেশের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।মুখ্যমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট সমস্ত রেকর্ড বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। সেগুলি স্ক্যান করে সিলমোহর দিয়ে ফেরত দেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যাঁরা অবৈধভাবে শংসাপত্র দিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত হবে, সাসপেন্ড করা হবে এবং প্রয়োজন হলে জেলেও যেতে হবে।তিনি আরও বলেন, শরণার্থীদের নামে যাঁদের শংসাপত্র ইস্যু হয়েছে এবং যারা সিএএ-তে অনুমোদিত, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। তবে যাঁরা অনুপ্রবেশকারী, তাঁদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এদিকে জন্ম ও মৃত্যু শংসাপত্র কেলেঙ্কারি সামনে আসতেই বৃহস্পতিবার সকাল থেকে রাজ্যজুড়ে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। কলকাতা, দুর্গাপুর, নদিয়া, বীরভূম, রামপুরহাট, দুবরাজপুর এবং কোচবিহারের বিভিন্ন পঞ্চায়েত ও পুরসভায় হানা দিয়ে রেজিস্টার ও গুরুত্বপূর্ণ নথি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।তল্লাশির মাঝেই নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ্যসচিব মনোজকুমার আগরওয়াল জানান, এবার থেকে পঞ্চায়েত প্রধান ও পুরপ্রধানরা আর জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবেন না। শুধুমাত্র সরকারি আধিকারিকরাই এই শংসাপত্র ইস্যু করবেন। স্বাস্থ্যদপ্তরের তরফে গোটা রাজ্যে আধিকারিকদের দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।

জুলাই ২৩, ২০২৬
কলকাতা

‘দিদিকে বুঝতে হবে, না হলে দল শেষ’— কল্যাণের বিস্ফোরক বার্তায় তোলপাড় তৃণমূল

কালীঘাট তৃণমূলের অন্দরে অস্বস্তি আরও বাড়ালেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। একুশে জুলাইয়ের মঞ্চের ঘটনার পর তিনি প্রকাশ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন। যদিও তিনি জানিয়েছেন, তিনি এখনও মমতার পাশেই আছেন। তবে তাঁর বক্তব্য, দিদিকে বুঝতে হবে, না হলে দল শেষ হয়ে যাবে।বিতর্কের সূত্রপাত একুশে জুলাইয়ের সভামঞ্চে কল্যাণের বক্তব্যকে ঘিরে। অভিযোগ, তিনি নির্ধারিত সময়ের বেশি বক্তৃতা দিচ্ছিলেন। সেই সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরক্তি প্রকাশ করেন। পরে কল্যাণ মঞ্চ থেকে নেমে যান। প্রথমে তিনি বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও পরদিন দিল্লিতে সাংবাদিক বৈঠক করে বিস্তারিতভাবে ঘটনার কথা জানান।কল্যাণ বলেন, আমি যখন মঞ্চে পৌঁছই, তখন কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ছিল। আমি গিয়ে পরিস্থিতি সামলাই এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণ করি। পরে বক্তাদের তালিকা নিয়ে আলোচনা হয়। মহুয়া মৈত্রর নাম তালিকায় ছিল না। তখন আমি নিজে বক্তব্য রাখার অনুমতি চাই এবং দিদিকে বার্তা পাঠাই।তিনি আরও বলেন, আমি বক্তৃতা শুরু করার পর অভিষেক মঞ্চে ঘুরতে থাকেন। নিজের জনপ্রিয়তা দেখানোর জন্য এভাবে করা উচিত নয়। আমি ৫-৭ মিনিট বক্তৃতা বন্ধ রাখি। দিদি আসার পরও কিছুক্ষণ থেমে ছিলাম। তারপর তাঁর অনুমতি নিয়েই আবার বলি। কিন্তু শেষে দিদি প্রকাশ্যে বলেন, আমি এক ঘণ্টা ধরে বক্তৃতা করছি। এভাবে সবার সামনে অপমান করা ভালো লাগে না।অভিষেককে আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, অভিষেক এত বড় নেতা হলে গত আড়াই মাস মাঠে ঘুরলেন না কেন? আমি ঝুঁকি নিয়ে ঘুরেছি, কর্মীদের সাহস দিয়েছি। দিদির যদি মনে হয় অভিষেককে নিয়েই দল চলবে, তাহলে আমাদের ছেড়ে দিন।তিনি আরও বলেন, আমি দিদিকে ভালোবাসি বলেই রাজনীতি করেছি। আমার জীবন, যৌবন, পেশা, সংসার সব দিদির জন্য উৎসর্গ করেছি। কিন্তু দিদিকে যুক্তিসঙ্গত হতে হবে। শুধু অভিষেক, ডেরেক যা বলবে তাই হলে চলবে না।আরজি কর কাণ্ডের সময় মমতাকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরানোর চেষ্টা হয়েছিল বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ করেন কল্যাণ। যদিও তিনি কারও নাম উল্লেখ করেননি। তাঁর দাবি, সেই কঠিন সময়ে আমি ও কুণাল দিদির পাশে ছিলাম।এদিন কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রশংসাও করেন কল্যাণ। তিনি বলেন, ২০২২ সালে আমি অভিষেকের বিরুদ্ধে কথা বলেছিলাম। তখন অনেকেই পাশে ছিল না। একমাত্র কাকলি আমার পাশে দাঁড়িয়েছিল। কল্যাণের এই মন্তব্যের পর কালীঘাট তৃণমূলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলেন, তৃণমূল মানেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমরা তাঁর কথাতেই তৃণমূল করি। এর বেশি কিছু বলব না।কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই প্রকাশ্য ক্ষোভ তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

জুলাই ২২, ২০২৬
কলকাতা

‘পুরো বকেয়া ডিএ পেয়ে যাবেন’— মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসে চাঞ্চল্য

সরকারি কর্মীদের মহার্ঘ্য ভাতা বা ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিনের জল্পনার মধ্যে বড় আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি জানিয়েছেন, আগামী দিনে রাজ্যের সরকারি কর্মীরা পুরো বকেয়া ডিএ পেয়ে যাবেন।একুশে জুলাইয়ের সভা থেকে এই ইস্যুতে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেছিলেন, কেন ১ এপ্রিল থেকে ডিএ পেলেন না সরকারি কর্মীরা? আমি তো সব পরিষ্কার করে দিয়ে এসেছিলাম।এই বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর মন্ত্রীত্বের সময়কার একটি অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ২০১৫ সালে অভিরূপ সরকারের কমিটি গঠিত হয়েছিল। আমি ২০১৬ সালে মন্ত্রী হই। ২০১৯ সালে আমি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীকে পে কমিশনের টাকা নিয়ে প্রশ্ন করেছিলাম। তিনি বলেছিলেন, অর্থমন্ত্রী জানাচ্ছেন কমিশনের রিপোর্ট তৈরি হয়নি। আমি বলি, সেটা ভুল কথা। কমিশনের চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করুন।শুভেন্দুর দাবি, তখন কমিশনের চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন যে অর্থমন্ত্রী তাঁকে রিপোর্ট জমা দিতে বারণ করেছিলেন, কারণ সরকারের কাছে টাকা ছিল না। তিনি বলেন, আমি তখনই বলেছিলাম, রিপোর্টটি দিয়ে দিন।পশ্চিমবঙ্গে ডিএ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চলছে। বকেয়া ডিএর দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মীরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। বহুদিন পেন-ডাউন আন্দোলনও চলেছে।এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু বলেন, ২০২০ সালে ষষ্ঠ পে কমিশনের সুবিধা দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু ডিএ তুলে দেওয়া হয়। পরে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। সেই লড়াইয়ে আমারও ছোটখাটো ভূমিকা ছিল। যারা থার্ড পার্টির মাধ্যমে টাকা পান, তাঁদের বিষয়টিও আমরা দেখছি।মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, রাজ্যের সঙ্গে কেন্দ্রের ডিএ-র ব্যবধান ধীরে ধীরে কমানো হবে। অনেকে ভেবেছিলেন ৪২ শতাংশ ডিএ দেওয়া হবে, আবার কেউ কেউ ১০ শতাংশের কথা বলছিলেন। আমরা কোনওটাই করিনি। হিসাব করে যা দেওয়া হয়েছে, তা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে বাকি অংশও পূরণ করা হবে।তাঁর এই আশ্বাসে সরকারি কর্মীদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।

জুলাই ২২, ২০২৬
কলকাতা

মমতার কড়া আক্রমণের পর প্রথম মুখ খুললেন জ্ঞানেশ! এক মন্তব্যেই তোলপাড় রাজনীতি

বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন এবং তৎকালীন তৃণমূল সরকারের মধ্যে টানা সংঘাত তৈরি হয়েছিল। সেই সময় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কড়া সমালোচনা করেছিলেন। জনসভা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি।তবে সেই সময় জ্ঞানেশ কুমার প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। সম্প্রতি দিল্লিতে সাংবাদিকদের এক অনুষ্ঠানে এই প্রসঙ্গ উঠতেই তিনি মন্তব্য করেন, তিনি ভেবেছিলেন জবাব দেবেন, কিন্তু বাংলার মানুষই সেই জবাব দিয়ে দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর কাছে দিদির মতো। তিনি যা বলার বলেছেন, তাই নিয়ে তাঁর আলাদা করে কিছু বলার নেই। এই মন্তব্যের সময় তাঁকে হাসতেও দেখা যায়।নির্বাচনের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একাধিকবার নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। পরে তিনি নিজে কমিশনের দপ্তরে গিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকও করেন। বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সামনে তিনি কমিশনের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর অভিযোগ ছিল, কমিশনের আচরণ পক্ষপাতদুষ্ট এবং অহঙ্কারী। সেই সময় কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।এবার ভোট শেষ হওয়ার পর জ্ঞানেশ কুমারের এই মন্তব্য নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তাঁর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়া ঘিরে আবারও শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।

জুলাই ১৮, ২০২৬
কলকাতা

মমতার বাড়ি থেকে ঢিলছোড়া দূরত্বে কী চলছিল? বাসিন্দাদের অভিযোগে শোরগোল

প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির কাছেই কালীঘাট মিলন সংঘ ক্লাব এবং তার পাশের বস্তি এলাকা ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে। ওই এলাকায় বসবাসকারী বহু পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তাঁদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাড়ার নামে টাকা নেওয়া হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, কেউ মাসে তিনশো টাকা, কেউ পাঁচশো টাকা, আবার কোনও কোনও পরিবারের কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। টাকার বিনিময়ে তাঁদের হাতে কালীঘাট মিলন সংঘের নামে একটি স্লিপ দেওয়া হতো বলেও দাবি করেছেন বাসিন্দারা।স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, এই টাকা নেওয়ার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই ষষ্ঠী চট্টোপাধ্যায়ের নাম জড়িয়ে রয়েছে। তাঁদের দাবি, কখনও তিনি নিজে এসে টাকা নিতেন, আবার কখনও তাঁর হয়ে অন্য কেউ এসে ভাড়া সংগ্রহ করতেন। যদিও এই অভিযোগের স্বাধীনভাবে কোনও সরকারি বা বিচারিক সত্যতা এখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি।এই বস্তি এলাকা আদি গঙ্গার ধারে এবং কলকাতা বন্দরের জমির উপর অবস্থিত বলে জানা গিয়েছে। বাসিন্দাদের দাবি, বছরের পর বছর টাকা দেওয়া হলেও তাঁরা কোনও ধরনের উন্নয়ন বা পরিষেবা পাননি। এই অভিযোগ নিয়ে স্থানীয় বিধায়কের দপ্তরে স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়েছে। পরে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বও এলাকা পরিদর্শন করে বাসিন্দাদের বক্তব্য শোনেন।এক বাসিন্দার দাবি, তাঁরা শুনেছেন পুরো বিষয়টি একটি ক্লাবের মাধ্যমে পরিচালিত হতো। কিন্তু নিয়মিত টাকা দেওয়ার পরও কোনও সুযোগ-সুবিধা বা পরিষেবা মেলেনি। আরেক বাসিন্দার অভিযোগ, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এই ভাড়া দেওয়ার প্রথা শুরু হয় এবং বহু বছর ধরে তা চলেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা খতিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

জুলাই ১৮, ২০২৬
দেশ

‘প্রভু অহংকার সয় না, তাই সরকারও টেকেনি’! মমতাকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য পুরীর জগন্নাথদেবের মুখ্য পানিগ্রাহীর

দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের নামের সঙ্গে ধাম শব্দ ব্যবহার নিয়ে শুরু থেকেই বিতর্ক ছিল। বিভিন্ন মহল আপত্তি তুললেও সেই নামেই মন্দিরের উদ্বোধন হয়েছিল। তবে সরকার পরিবর্তনের পর সেই ধাম শব্দ সরিয়ে দেওয়া হয়। এবার এই বিতর্কে নতুন করে মুখ খুললেন পুরীর জগন্নাথদেবের মুখ্য পানিগ্রাহী জগন্নাথ দয়িতাপতি। তাঁর দাবি, তিনি আগেই এই বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কথা শোনা হয়নি। তাঁর মন্তব্য, প্রভু কারও অহংকার সহ্য করেন না। সেই কারণেই সরকারও টেকেনি।এক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জগন্নাথ দয়িতাপতি বলেন, তিনি কোনও রাজনীতি করেন না, শুধু ধর্মীয় বিধি ও শাস্ত্র অনুযায়ী মত প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, চার ধামের অন্যতম হল পুরীর জগন্নাথ ধাম। তাই অন্য কোনও মন্দিরের নামের সঙ্গে ধাম শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়। তিনি জানান, দিঘার মন্দিরের নাম নিয়ে আগেই আপত্তি জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরামর্শ মানা হয়নি।তিনি আরও বলেন, দেশে বহু জগন্নাথ মন্দির রয়েছে। কিন্তু ধাম হিসেবে স্বীকৃতি একমাত্র পুরীরই। তাই দিঘার মন্দিরের নামের সঙ্গে ধাম শব্দ যোগ করা ধর্মীয় দৃষ্টিতে সঠিক ছিল না। তাঁর দাবি, এই বিষয়েই তিনি বারবার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু সেই কথা গুরুত্ব পায়নি।জগন্নাথ দয়িতাপতি এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসাও করেন। তাঁর বক্তব্য, সরকার পরিবর্তনের পর দিঘার মন্দিরের নাম থেকে ধাম শব্দ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে তিনি সঠিক বলে উল্লেখ করেন।এর আগে পুরীর প্রধান পুরোহিত রাজেশ দয়িতাপতিও একই ধরনের বক্তব্য রেখেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, দিঘার জগন্নাথ মন্দির প্রতিষ্ঠার সময়ই তিনি কয়েকটি বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে পাথরের মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা এবং ধাম শব্দ ব্যবহারের বিরোধিতা করেছিলেন। পরে নিমকাঠের মূর্তি তৈরি হলেও ধাম শব্দটি সরানো হয়নি বলে তাঁর আক্ষেপ ছিল।দিঘার জগন্নাথ মন্দির ঘিরে এই বিতর্ক ফের নতুন করে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিশেষ করে মুখ্য পানিগ্রাহীর মন্তব্য ঘিরে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

জুলাই ১৬, ২০২৬
কলকাতা

‘বেইমানদের জন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী’! বিস্ফোরক বার্তায় নতুন লড়াইয়ের ডাক মমতার

তৃণমূলের অন্দরে একের পর এক নেতা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে দলের ভিতরে অস্বস্তি বাড়লেও লড়াই থেকে এক ইঞ্চিও পিছিয়ে যেতে রাজি নন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, প্রয়োজন হলে আবারও শূন্য থেকে দল গড়ে তুলতে প্রস্তুত তিনি।মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, মানুষ দলের প্রতীক দেখে ভোট দিয়েছেন। তাই যাঁরা দল ছেড়ে চলে যাচ্ছেন, তাঁদের জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তাঁদের বেইমান বলেও কড়া আক্রমণ করেছেন। তাঁর দাবি, দুই হাজার সাতানব্বই সালে একা লড়াই শুরু করেছিলেন। তখনও সফল হয়েছিলেন। তাই দুই হাজার ছাব্বিশ সালেও নতুন করে লড়াই শুরু করার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে।সাম্প্রতিক সময়ে মদন মিত্র-সহ একাধিক নেতা বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। এই প্রসঙ্গে মমতা বলেন, অভিষেককে অকারণে নিশানা করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, অভিষেক নিজের দায়িত্ব পালন করছেন এবং আগামী বহু বছর রাজনীতিতে সক্রিয় থাকবেন।মদন মিত্রের দলত্যাগ প্রসঙ্গেও পরোক্ষে প্রতিক্রিয়া দেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপ দেখিয়ে অনেককে দল ছাড়তে বাধ্য করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের নোটিস পাঠিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, যাঁরা দল ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁদের অনেকের পরিস্থিতি আগেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন।এরপর তৃণমূলের শুরুর দিনের কথা মনে করিয়ে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে দল গড়ে নির্বাচন লড়ে সংসদে প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছিল। পরে কঠিন সময় এলেও লড়াই থামেনি। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকেও তিনি নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবেই দেখছেন।একুশে জুলাইয়ের শহিদ সমাবেশ নিয়েও বার্তা দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। তিনি জানান, আদালতের নির্দেশ মেনে বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভা হবে। প্রতি বছরের মতো সমাবেশের আগের দিন তিনি নিজে গিয়ে প্রস্তুতি খতিয়ে দেখবেন। পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন, যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।মমতা আরও বলেন, কোনও বাধা এলেও সভা বন্ধ হবে না। প্রয়োজন হলে মাইক্রোফোন ছাড়াই কর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, একুশে জুলাইয়ের সমাবেশ নির্ধারিত সময়েই হবে এবং দল লড়াই চালিয়ে যাবে।

জুলাই ১৫, ২০২৬
কলকাতা

একুশের পোস্টার থেকে হঠাৎ উধাও অভিষেক! তৃণমূলে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত?

একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের নতুন পোস্টার প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা। পোস্টারে রয়েছেন শুধু তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি নেই। এই নিয়েই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে বিস্তর আলোচনা।কলকাতা হাইকোর্ট একুশে জুলাইয়ের সমাবেশের জন্য বিড়লা তারামণ্ডলের সামনে সভার অনুমতি দেওয়ার পর নতুন পোস্টার প্রকাশ করেন কুণাল ঘোষ। পরে সেই একই পোস্টার নিজের সামাজিক মাধ্যমেও ভাগ করে নেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু পোস্টারে তাঁর ছবি না থাকায় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে।এর আগে প্রকাশিত প্রথম পোস্টারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল। তখন সমাবেশের নির্দিষ্ট স্থান ঠিক না হওয়ায় শুধু কলকাতায় আসার আহ্বান জানানো হয়েছিল। কিন্তু নতুন পোস্টারে শুধুমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি রাখা হয়েছে।এই ঘটনা এমন সময়ে সামনে এল, যখন দলের অন্দরে একের পর এক রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা চলছে। সাম্প্রতিক সময়ে কয়েক জন নেতা ও বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের অনেকেই প্রকাশ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। সর্বশেষ সেই তালিকায় যোগ হয়েছে মদন মিত্রের নাম। ফলে পোস্টারে অভিষেকের ছবি না থাকাকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে।তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, এই ঘটনাকে নতুন করে দেখার প্রয়োজন নেই। কারণ গত বছরও একুশে জুলাইয়ের প্রচারের পোস্টারে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি ছিল না। সেই সময় দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, এই সমাবেশের পোস্টারে শুধুমাত্র দলের সর্বোচ্চ নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবিই রাখা হবে। একই ধরনের ঘটনা দুই হাজার তেইশ সালেও দেখা গিয়েছিল।ফলে নতুন পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা যতই বাড়ুক, এটি কৌশলগত সিদ্ধান্ত নাকি তার পিছনে অন্য কোনও রাজনৈতিক বার্তা রয়েছে, সেই উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। তবে একুশে জুলাইয়ের আগে এই পোস্টার যে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

জুলাই ১৫, ২০২৬
রাজ্য

শিবির বদলেই বড় পদক্ষেপ! অফিস থেকে উধাও অভিষেকের ছবি, কিন্তু মমতার ছবি কেন রইল?

শিবির বদলের পর থেকেই রাজ্য রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডলকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ছেড়ে তিনি ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবিরে যোগ দিয়েছেন। শনিবার তাঁকে বীরভূম জেলার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে। আর তার পরের দিনই বোলপুরে তাঁর দলীয় কার্যালয়ে দেখা গেল বড় পরিবর্তন।রবিবার বোলপুরের নিচুপট্টিতে অনুব্রত মণ্ডলের বাড়ি সংলগ্ন দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি আর নেই। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একাধিক ছবি আগের মতোই রাখা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। অনেকের প্রশ্ন, ঋতব্রত শিবিরে যোগ দিলেও কি অনুব্রত এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিজের নেত্রী হিসেবে মানছেন? আবার অভিষেকের ছবি সরিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে কি বিশেষ কোনও রাজনৈতিক বার্তা দিতে চাইলেন তিনি? সেই প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে।শিবির বদলের পর অনুব্রত মণ্ডল প্রকাশ্যেই দলের ভরাডুবির জন্য নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণকারী সংস্থাকে দায়ী করেছিলেন। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সেই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পরোক্ষভাবে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেই নিশানা করেছিলেন। কারণ ওই সংস্থার সঙ্গে অভিষেকের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে আলোচিত।এ প্রসঙ্গে অনুব্রত মণ্ডল বলেন, বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে তিনি বহু প্রার্থীকে জয়ী করেছেন, তখন ওই সংস্থার কোনও ভূমিকা ছিল না। তাঁর প্রশ্ন, হঠাৎ এমন কী ঘটল যে তাঁকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল? একই সঙ্গে তিনি জানান, তিনি তৃণমূলকে ভালোবাসেন এবং কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে এসেছিলেন। বীরভূমে সকলকে নিয়ে দলের নির্দেশ মেনেই কাজ করবেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি সরিয়ে দেওয়া হলেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ছবি আগের জায়গাতেই থাকায় এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক জল্পনা আরও বেড়েছে। আগামী দিনে এই পরিবর্তনের আরও কোনও রাজনৈতিক তাৎপর্য সামনে আসে কি না, এখন সেটাই দেখার।

জুলাই ১২, ২০২৬
  • ‹
  • 1
  • 2
  • 3
  • 4
  • 5
  • 6
  • 7
  • 8
  • 9
  • 10
  • ...
  • 26
  • 27
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

মিরিক যাওয়ার পথে ফের বিপদ! বালাসনের জলে ভেসে গেল অস্থায়ী সেতু

রাতভর টানা বৃষ্টিতে ফের বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। বালাসন নদীর জলস্তর বাড়তেই কয়েক মাসের ব্যবধানে আবার ভেসে গেল দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। এর ফলে সড়কপথে মিরিকের সঙ্গে যোগাযোগ আংশিক ভাবে ব্যাহত হয়েছে। আপাতত বেইলি সেতু দিয়ে ছোট গাড়ি চলাচল করলেও বড় গাড়ি চলাচল পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। তার উপর নতুন করে ধস নামার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দা থেকে পর্যটকেরা।গত জুলাইয়েও টানা বৃষ্টিতে বালাসন নদীর জলস্তর বেড়ে গিয়েছিল। সেই সময় মহানন্দার ফুলবাড়ি ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। শেষ পর্যন্ত জলের তোড়ে ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু। শিলিগুড়ি থেকে মিরিকের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।এর পর যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শুরু হয় সেতু মেরামতির কাজ। দ্রুত যোগাযোগ স্বাভাবিক করতে সেনার তরফে তৈরি করা হয় বেইলি সেতুও। কিন্তু দেড় মাস যেতে না যেতেই ফের একই পরিস্থিতি তৈরি হল।বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই উত্তরবঙ্গের একাধিক এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে বালাসন নদীর জলস্তর। এক সময় নদীর প্রবল স্রোতে ফের ভেসে যায় দুধিয়ার অস্থায়ী হিউমপাইপের সেতু। ফলে মিরিকের পথে নতুন করে তৈরি হয়েছে যোগাযোগের সমস্যা।আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, উত্তর বঙ্গোপসাগর এবং বাংলাদেশ সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপটি সরে গিয়ে এখন উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের উপর অবস্থান করছে। নিম্নচাপটি কিছুটা দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ঝুঁকে রয়েছে। পাশাপাশি হরিয়ানা থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের ওই নিম্নচাপ পর্যন্ত একটি অক্ষরেখা বিস্তৃত রয়েছে। সেই অক্ষরেখা ঝাড়খণ্ড ও পশ্চিমবঙ্গের উপর দিয়ে গিয়েছে। এর প্রভাবেই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টি শুরু হয়েছে বলে আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে।শুক্রবার জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টির হলুদ সতর্কতা জারি রয়েছে। উত্তরবঙ্গের বাকি জেলাগুলির দু-এক জায়গাতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে।শনিবারও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা নেই। কালিম্পং এবং জলপাইগুড়িতে ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে। ফলে পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কাও থাকছে। দুধিয়ার সেতু ভেসে যাওয়ার পর নতুন করে সেই আশঙ্কা স্থানীয়দের চিন্তা আরও বাড়িয়েছে।আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, সোমবার থেকে উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। তবে আগামী কয়েক দিনে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জায়গাতেও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। রবিবার থেকে দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমার সম্ভাবনা রয়েছে বলে পূর্বাভাস।দুধিয়ার সেতু ফের ভেসে যাওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি মিরিকমুখী পর্যটকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আপাতত ছোট গাড়ি বেইলি সেতু দিয়ে চলাচল করলেও বড় গাড়ি বন্ধ থাকায় যাতায়াতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। বৃষ্টি এবং নদীর জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতার কংগ্রেস নেতা! বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর অভিযোগে চাঞ্চল্য

বাগেশ্বর ধামের প্রধান ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী, যিনি বাগেশ্বর বাবা নামে পরিচিত, তাঁর ছবি পোড়ানোর অভিযোগে দক্ষিণ কলকাতা জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অতনু দাসকে গ্রেফতার করল পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাতে টালিগঞ্জের বাড়ি থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলে কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়েছে। ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই বিধানসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি।বিধানসভায় বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভবানীপুরে থানার সামনে কয়েক জনকে ছবি পোড়াতে দেখা গিয়েছে। তাঁদের গ্রেফতার করার জন্য তিনি কলকাতার পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দেন বলেও জানান। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ছিল, এ রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা চলতে পারে না। তাঁর সেই মন্তব্যের পরেই রাতে অতনু দাসকে বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে।অতনু দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাগেশ্বর বাবার ছবি পোড়ানোর ঘটনায় তিনি জড়িত ছিলেন। তাঁকে গ্রেফতার করে ভবানীপুর থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে রাতেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়।অন্য দিকে, কংগ্রেস নেতা প্রদীপ প্রসাদ এই গ্রেফতারির তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তাঁর দাবি, বাগেশ্বর বাবা বাংলার মানুষকে পাখণ্ডী বলে অপমান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদেরই এই মন্তব্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা উচিত ছিল। কিন্তু প্রতিবাদ করার কারণে কংগ্রেস নেতাদের বিরুদ্ধেই মামলা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।প্রদীপ প্রসাদ আরও দাবি করেন, এর আগেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের কুশপুতুল পোড়ানো হয়েছে। কিন্তু সেই ঘটনাগুলিতে মামলা বা গ্রেফতারির মতো পদক্ষেপ হয়নি। তাঁর বক্তব্য, একসময় জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, অটল বিহারী বাজপেয়ী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুশপুতুল পোড়ানো হলেও তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়নি।কংগ্রেস নেতার আরও দাবি, এখানে কুশপুতুল নয়, একটি ছবি পোড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। তাই এই ঘটনায় এত দ্রুত গ্রেফতারি কেন হল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, বাঙালির অসম্মানের প্রতিবাদ করতে গিয়ে যদি গ্রেফতার হতে হয়, তাতেও তাঁরা পিছিয়ে যাবেন না।ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদল এবং কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক চাপানউতোর আরও বাড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এক দিকে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই গ্রেফতারি, অন্য দিকে কংগ্রেসের পাল্টা অভিযোগসব মিলিয়ে বাগেশ্বর বাবাকে ঘিরে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। তবে ছবি পোড়ানোর ঘটনায় অতনু দাসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং তাঁর ভূমিকা নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
রাজ্য

আজ ব্যাঙ্ক ধর্মঘট, কাল দ্বিতীয় শনিবার, পরশু রবিবার! পুজোর আগে টানা তিন দিন কী হবে গ্রাহকদের?

সপ্তাহে পাঁচ দিনের কর্মদিবসের দাবিতে শুক্রবার দেশজুড়ে ব্যাঙ্ক ধর্মঘট শুরু হয়েছে। তার পরেই দ্বিতীয় শনিবার এবং রবিবারের ছুটি। ফলে পুজোর মুখে টানা তিন দিন ব্যাঙ্ক পরিষেবা বন্ধ থাকায় চরম সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। বহু জায়গায় এটিএম পরিষেবাও ব্যাহত হয়েছে। যে কয়েকটি এটিএম চালু রয়েছে, সেখানে সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন দেখা গিয়েছে।শুক্রবার সকাল থেকেই একাধিক জেলায় ব্যাঙ্কের সামনে গ্রাহকদের বিক্ষোভ দেখা যায়। আসানসোলেও পাঁচ দিনের কর্মদিবসের দাবিতে বিক্ষোভে শামিল হন স্টেট ব্যাঙ্কের কর্মীরা। সব মিলিয়ে ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।কেন এই ধর্মঘট? ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় জানান, ২০২৪ সালের বেতন সংশোধনের সময় সপ্তাহে পাঁচ দিনের কর্মদিবস চালু করার বিষয়ে লিখিত চুক্তি হয়েছিল। কিন্তু প্রায় আড়াই বছর কেটে গেলেও সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি।সংগঠনের অভিযোগ, বার বার আইনি জটিলতার কথা বলে সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য সময় চাওয়া হয়েছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পরেও কোনও সমাধান না হওয়ায় এবার ধর্মঘটের পথে যেতে বাধ্য হয়েছেন ব্যাঙ্ক অফিসাররা বলে দাবি সংগঠনের।ব্যাঙ্ক অফিসারদের সংগঠনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, শুক্রবারের ধর্মঘটের পরও যদি দাবি পূরণ না হয়, তা হলে আন্দোলন আরও তীব্র করা হবে। আগামী ২৮, ২৯ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর টানা তিন দিনের ধর্মঘটের কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সেই কর্মসূচির পরেও দাবি না মানা হলে ২৬ অক্টোবর থেকে লাগাতার ধর্মঘটে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে সংগঠনটি।এই ধর্মঘটের প্রভাব শুধু রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে সীমাবদ্ধ নয়। সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে একাধিক বেসরকারি ব্যাঙ্কের অফিসারও রয়েছেন। ফলে বিভিন্ন বেসরকারি ব্যাঙ্কের পরিষেবাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে বলে জানা গিয়েছে।পুজোর আগে ব্যাঙ্ক পরিষেবা টানা তিন দিন বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ গ্রাহকরা। টাকা তোলা, জমা দেওয়া, চেক সংক্রান্ত কাজ এবং অন্যান্য ব্যাঙ্কিং পরিষেবার জন্য যাঁদের ব্যাঙ্কের উপর নির্ভর করতে হয়, তাঁদের অনেককেই শুক্রবার সকাল থেকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে।এদিকে এটিএম পরিষেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অনেক জায়গায় এটিএম বন্ধ থাকায় চালু থাকা এটিএমগুলির সামনে লম্বা লাইন দেখা গিয়েছে। ফলে ব্যাঙ্ক ধর্মঘটের সঙ্গে শনি ও রবিবারের ছুটি যুক্ত হয়ে গ্রাহকদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।পাঁচ দিনের কর্মদিবসের দাবি নিয়ে ব্যাঙ্ক অফিসারদের এই আন্দোলন আগামী দিনে কোন দিকে যায়, তা এখন দেখার। দাবি পূরণ না হলে সেপ্টেম্বরের তিন দিনের ধর্মঘট এবং অক্টোবর থেকে লাগাতার কর্মসূচির হুঁশিয়ারি কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেও নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

রাজাবাজার থেকে বেলেঘাটা, ৫০ বেআইনি বহুতল! কালো টাকার অভিযোগে এবার সিবিআই তদন্ত

কলকাতায় বেআইনি বহুতল নির্মাণের আড়ালে কোটি কোটি টাকার কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ উঠেছে। সেই অভিযোগের তদন্তে এবার সরাসরি সিবিআইকে দায়িত্ব দিল কলকাতা হাই কোর্ট। আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে।রাজাবাজার, মানিকতলা, বেলেঘাটা থেকে ক্যানাল স্ট্রিটকলকাতার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫০টি বেআইনি বহুতল নির্মাণের বিষয় আদালতের নজরে এসেছে বলে জানা গিয়েছে। এই নির্মাণগুলিকে ঘিরেই এ দিন কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে একের পর এক গুরুতর প্রশ্ন ওঠে।আদালতের পর্যবেক্ষণ, বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের কালো টাকার লেনদেনের যোগ থাকতে পারে। রিয়েল এস্টেট ব্যবসার মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেছে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ।শুধু তাই নয়, কলকাতা পুরসভা এই বেআইনি নির্মাণ সম্পর্কে কিছু জানত কি না, জানলেও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, সেই প্রশ্নও তুলেছে আদালত। পুরসভার কোনও আধিকারিকের প্রত্যক্ষ যোগসাজশ ছিল কি না, সেটিও তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে জানিয়েছে হাই কোর্ট।আদালতে এ দিন সিবিআইয়ের তরফে জানানো হয়, মামলাকারী সরাসরি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু আগের রাজ্য সরকারের তরফে তদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে সিবিআই আদালতে জানায়। সেই কারণে তখন কোনও পদক্ষেপ করা সম্ভব হয়নি বলেও জানানো হয়।তবে বেআইনি নির্মাণের সঙ্গে বিপুল অঙ্কের কালো টাকার লেনদেন এবং একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তির যোগ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেছে হাই কোর্ট। তাই বিষয়টি আর ফেলে রাখা যায় না বলেই আদালতের পর্যবেক্ষণ।এই পরিস্থিতিতে আদালতের নির্দেশে সিবিআই সরাসরি তদন্ত করতে পারবে বলে স্পষ্ট করেছে কলকাতা হাই কোর্ট। তদন্তের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় আইনি ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।এখন কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় চিহ্নিত বেআইনি বহুতলগুলির নেপথ্যে কারা রয়েছেন, নির্মাণের জন্য কী ভাবে অনুমোদন মিলেছিল, আর্থিক লেনদেনের কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং পুরসভার কোনও আধিকারিকের ভূমিকা ছিল কি না, সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখবে সিবিআই।আগামী ১৪ অক্টোবরের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দিতে হবে। ফলে সিবিআইয়ের তদন্তে বেআইনি নির্মাণ ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে কী তথ্য উঠে আসে, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
বিদেশ

দিল্লিতে পুতিন, মোদির সঙ্গে আজই বৈঠক! ব্রিকসের মঞ্চে কী বার্তা দেবে ভারত-রাশিয়া-চিন?

ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে শুক্রবার তিন দিনের ভারত সফরে এলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লদিমির পুতিন। শুক্রবার ভোর প্রায় ৪টে নাগাদ দিল্লির পালাম বায়ুসেনা ঘাঁটিতে তাঁর বিমান অবতরণ করে। সেখানে রুশ প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানান বিদেশ প্রতিমন্ত্রী কীর্তিবর্ধন সিং।দিল্লির ভারত মণ্ডপমে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অষ্টাদশ ব্রিকস সম্মেলন। তার আগে শুক্রবারই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসবেন পুতিন। এই বৈঠকে প্রতিরক্ষা, বাণিজ্য, জ্বানি, প্রযুক্তি-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ভারত ও রাশিয়ার সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।মোদি ও পুতিনের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল গত সপ্তাহে বিশকেকে অনুষ্ঠিত সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে। সেই বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গও উঠেছিল। মোদি রুশ প্রেসিডেন্টকে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ থেকে সরে এসে শান্তির পথে এগোনোর আহ্বান জানিয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের প্রভাব শুধু ইউরোপে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং জ্বালানি বাজারেও তার প্রভাব পড়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ঘিরেও তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। এমন পরিস্থিতিতে মোদি-পুতিন বৈঠক থেকে কী বার্তা আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আন্তর্জাতিক মহল।শুধু পুতিন নন, চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংও ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন। ফলে একই মঞ্চে ভারত, রাশিয়া ও চিনের তিন শীর্ষ নেতার উপস্থিতি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা। বিশ্ব রাজনীতিতে এই তিন দেশের সম্পর্ক এবং পারস্পরিক সহযোগিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বিশেষ করে আমেরিকার বাণিজ্যনীতি, একতরফা শুল্ক এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের আবহে ভারত, চিন ও রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন থেকে আমেরিকার উদ্দেশে কোনও বার্তা যায় কি না, সেদিকেও নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক মহলের।পুতিন ও জিনপিং ছাড়াও দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান-সহ একাধিক দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে ভারতে আসছেন। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের আবহে ইরানের প্রেসিডেন্টের ভারত সফরকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।সব মিলিয়ে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। যুদ্ধ, বাণিজ্য, শুল্ক, জ্বালানি এবং বিশ্ব অর্থনীতির মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যখন আলোচনার কেন্দ্রে, তখন ব্রিকসের মঞ্চ থেকে কোনও বড় বার্তা আসে কি না, সেটাই এখন দেখার। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বিশ্বজুড়ে চলা একের পর এক সংকট থেকে বেরিয়ে আসার কোনও নতুন পথ কি দেখাতে পারবে ব্রিকস?

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

যাদবপুরের নিয়োগে ‘বড় গরমিল’! সিবিআই তদন্ত চেয়ে উপাচার্যকে চিঠি সঙ্ঘঘনিষ্ঠ অধ্যাপক সংগঠনের

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে ফের প্রশ্ন উঠল। নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এবার সিআইডি, সিবিআই অথবা কোনও নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থার মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাল সঙ্ঘঘনিষ্ঠ অধ্যাপক সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ। বৃহস্পতিবার এই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে।সংগঠনের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের সময় প্রার্থীদের যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা ঠিক ভাবে যাচাই করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখার জন্যই তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।চিঠিতে ডেপুটি রেজিস্ট্রার-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি ফেটের সচিব পদে ভোটের বিধিনিষেধ চলাকালীন কী ভাবে সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সংগঠনটি।অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘের অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নিয়োগের ক্ষেত্রে পক্ষপাত, স্বজনপোষণ, প্রভাব খাটানো এবং আর্থিক অনিয়মের মতো অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনের দাবি, এই সমস্ত অভিযোগকেই তদন্তের আওতায় আনা হোক। তবে অভিযোগগুলি এখনও প্রমাণিত নয়।সংগঠনের তরফে আরও দাবি করা হয়েছে, এর আগে গত ১৫ মে এবং ১২ জুনও একই বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়ে উপাচার্যকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার ফের সেই দাবি জানানো হল।বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে, যেদিন বিধানসভায় পশ্চিমবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ প্রশাসন এবং নিয়ন্ত্রণ সংশোধনী বিল, ২০২৬ পেশ হয়েছে, সেদিনই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ নিয়ে নতুন করে তদন্তের দাবি সামনে এল। সংগঠনের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক নিয়োগের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এরই মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি নিয়েও বৃহস্পতিবার প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সংগঠনের সদস্যদের অতীত এবং বর্তমান ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি জানান, তাঁদের সমস্ত ইতিহাস বের করা হবে। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের পরই যাদবপুরের নিয়োগ নিয়ে তদন্তের দাবিতে উপাচার্যের কাছে চিঠি যাওয়ায় রাজনৈতিক ও শিক্ষামহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।এখন উপাচার্য এই চিঠির পর কী পদক্ষেপ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখতে কোনও তদন্ত হয় কি না এবং হলে কোন সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, সেদিকেই নজর থাকবে।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
শিক্ষা

আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মী বদলির বিল বিধানসভায় পাশ, শিক্ষাক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসন নিয়ে তীব্র বিতর্ক

নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার যুক্তি সরকারের, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন খর্ব হবেআপত্তি শিক্ষকমহলের।কলকাতা: রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলির পথ খুলে গেল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হল দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ইউনিভার্সিটিজ অ্যান্ড কলেজেস (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল, ২০২৬। যদিও সরকারের এই উদ্যোগকে ঘিরে ইতিমধ্যেই তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। শিক্ষকমহল ও বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠনের অভিযোগ, এই আইনের ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বশাসন এবং শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।বিশেষ অধিবেশনে উচ্চশিক্ষামন্ত্রী জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় বিলটি পেশ করেন। গত ৮ সেপ্টেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভা এই সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছিল। সংশোধিত আইনে ২০১৭ সালের আইনের ১৪এ ধারায় নতুন বিধান যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। সেই বিধান অনুযায়ী, প্রয়োজন অনুযায়ী রাজ্যের একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের বদলি করতে পারবে সরকার।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতেই বদলি, দাবি সরকারেরসরকারের যুক্তি, রাজ্যের নতুন তৈরি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ শিক্ষক ও কর্মীদের পাঠানো হলে সেখানকার পরিকাঠামো ও শিক্ষার মান উন্নত হবে। ঝাড়গ্রাম বা কোচবিহারের মতো জায়গায় গড়ে ওঠা নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে সেন্টার অফ এক্সেলেন্স-এ পরিণত করার ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে সরকার।মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন বিধানসভায় বিলটির পক্ষে সওয়াল করে বলেন, এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন এবং সরকারের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে। তাঁর দাবি, এর ফলে পিএইচডি-র তত্ত্বাবধান বা গবেষণা প্রকল্পে কোনও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের পাঠানো হলে তাঁরা পরিকাঠামো তৈরি, ক্লাস পরিচালনা এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবেন। তাঁর কথায়, নতুন প্রতিষ্ঠানগুলিতে অভিজ্ঞ মানবসম্পদ পৌঁছনোর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে মানবসম্পদের আদানপ্রদানও হবে।সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়বে, সরব শিক্ষকমহলতবে সরকারের এই যুক্তি মানতে নারাজ শিক্ষকমহলের একাংশ। তাঁদের বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট সাংবিধানিক বা আইনগত স্বশাসিত সংস্থা রয়েছে। সেখানে রাজ্য সরকারের সরাসরি বদলির ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসনকে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।বালিগঞ্জ সায়েন্স কলেজের মাইক্রোবায়োলজির শিক্ষক সাগরময় ঘোষের মতে, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করার জন্য সরাসরি বদলির পথে না গিয়ে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মেন্টরিং করানো যেত।তাঁর বক্তব্য, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সম্পদ ও দক্ষতার ভাগাভাগির মতো মডেল জাতীয় শিক্ষানীতিতেও রয়েছে। কিন্তু জোর করে অধ্যাপকদের বদলি করলে দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে ওঠা কোনও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব একাডেমিক কাঠামো ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হতে পারে।এক অধ্যাপকও প্রশ্ন তুলেছেন, যে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল বা সিন্ডিকেট শিক্ষক নিয়োগ করে, সেই শিক্ষকদের পরে রাজ্য সরকার অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি করার ক্ষমতা পাবে কেন?গবেষণা নিয়েও আশঙ্কাবিলটি ঘিরে গবেষণার ক্ষেত্রেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানস ঘোষ। তাঁর দাবি, একটি বিভাগে দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা থাকলেই আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সম্ভব। হঠাৎ করে শিক্ষক বদলি শুরু হলে গবেষণার ধারাবাহিকতা নষ্ট হতে পারে।তাঁর মতে, বিভিন্ন গবেষণা ও অর্থদাতা সংস্থা কোনও অধ্যাপকের নেতৃত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার পরিকল্পনার ভিত্তিতে অর্থ বরাদ্দ করে। ঘন ঘন বা ইচ্ছেমতো বদলি শুরু হলে সেই অর্থসাহায্যও প্রভাবিত হতে পারে।প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অর্ণব হালদারও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগ, রাজ্য সরকার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক বিষয়ে আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে।নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনিয়োগ করুক সরকারকলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষক বলেন, নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সমস্যার মূল কারণ যদি পরিকাঠামোগত দুর্বলতা হয়, তাহলে তার সমাধান হিসেবে অভিজ্ঞ অধ্যাপকদের বদলি না করে সরকারকে পরিকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ করতে হবে।তাঁর মতে, সাধারণত অভিজ্ঞ অধ্যাপকেরা উন্নত গবেষণার সুযোগ, ল্যাবরেটরি, পরিকাঠামো এবং একাডেমিক পরিবেশের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেন। ফলে শুধু শিক্ষক বদলি করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা সম্ভব কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।বদলি নিয়ে নতুন বিতর্কএকদিকে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে শক্তিশালী করতে অভিজ্ঞ শিক্ষক-মানবসম্পদ কাজে লাগানোর যুক্তি দিচ্ছে সরকার, অন্যদিকে শিক্ষক সংগঠন ও শিক্ষাবিদদের একাংশের আশঙ্কাএই ক্ষমতা ভবিষ্যতে নির্বাচিতভাবে কোনও শিক্ষককে বদলি বা চাপের মুখে ফেলার হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।ফলে বিধানসভায় বিল পাশ হলেও রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন বনাম সরকারের প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।Source: Telegraph India

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬
কলকাতা

'জনতার দরবারে' অভিযোগের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই অ্যাকশন! তোলাবাজির মামলায় গ্রেফতার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ ৩

জনতার দরবারে প্রোমোটারের অভিযোগের পরেই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগে দমদমের প্রাক্তন উপপুরপ্রধান বরুণ নট্টকে গ্রেফতার করার পাশাপাশি তাঁর দুই ঘনিষ্ঠকেও পাকড়াও করা হয়েছে।দমদমে তোলাবাজি ও প্রতারণার অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। পুলিশের জালে দমদম পুরসভার প্রাক্তন উপপুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা বরুণ নট্ট। তাঁর সঙ্গে গ্রেফতার করা হয়েছে নয়নাশিস দাস ওরফে জনি এবং সুমন্ত ঘোষ ওরফে লাল্টুকে। ধৃত নয়নাশিস দমদম পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর পর্ণা দাসের ছেলে বলে জানা গিয়েছে।পুলিশ সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার দমদম থানায় প্রোমোটার সুজয় মজুমদার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে তোলাবাজি ও প্রতারণার কথা উল্লেখ করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্তে নামে পুলিশ। এরপর রাতেই বরুণ নট্ট, নয়নাশিস এবং সুমন্তকে তাঁদের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।ধৃতদের বিরুদ্ধে তোলাবাজি, প্রতারণা-সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। শুক্রবার তিন জনকেই ব্যারাকপুর আদালতে হাজির করানোর কথা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে তাঁদের ১০ দিনের পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে পুলিশ।তদন্তকারীদের মূল নজর এখন কয়েকটি প্রশ্নেঅভিযোগে যে তোলাবাজির কথা বলা হয়েছে, তার সঙ্গে বরুণ নট্ট এবং তাঁর দুই ঘনিষ্ঠের সরাসরি যোগ রয়েছে কি না, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত রয়েছেন কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে কোনও আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে সেই টাকা কীভাবে ও কার মাধ্যমে আদানপ্রদান হয়েছে।ঘটনার রাজনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। কারণ, সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে হাজির হয়ে তোলাবাজির অভিযোগ তুলেছিলেন প্রোমোটার সুজয় মজুমদার। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানানোর মাত্র দুদিনের মধ্যেই প্রাক্তন উপপুরপ্রধান-সহ তিন জনের গ্রেফতারিকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে।তবে অভিযোগের সত্যতা এখনও তদন্তসাপেক্ষ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোটা ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছেন, অভিযুক্তদের ভূমিকা ঠিক কতটা এবং আর্থিক লেনদেনের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি নাসবকিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।শুক্রবার আদালতে ধৃতদের পেশ করার পর পুলিশি হেফাজত পাওয়া যায় কি না এবং তদন্তে নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

সেপ্টেম্বর ১১, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal